সর্বশেষ

10/recent/ticker-posts

আসছে পেঁয়াজ, কমছে দাম!

 

ছবি; পেঁয়াজ



আমাদের দেশ আমদানি নির্ভর, অর্থাৎ আমাদের কিছু জিনিস বাদে সবকিছু আমদানি করতে হয়। তারমধ্যে পেয়াঁজ খুব গুরুত্বপূর্ণ।


আমাদের দেশের মধ্যে যে পরিমাণ পেয়াঁজ উৎপাদন হয় সেটা দিয়ে প্রায় ৭০% ঘাটতি পূরণ হয় বাকি ৩০ % ঘাটতি পূরণ করার জন্য আমাদের দেশ আমদানি করে অন্য দেশ থেকে।  আর পাশের দেশ ভারত সেদিক দিয়ে আমাদের সাহায্য করে, কারন তারা যে দামে আমাদের পেয়াঁজ দেয় সেই দামে অন্য দেশ থেকে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো অগ্রিম নোটিশ না দিয়ে ভারত পেয়াঁজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় , এতে করে ব্যবসায়ি মহল থেকে শুরু করে খুচরা দোকানেও তার প্রভাব পড়ে।  তার ফলস্বরূপ ক্রেতারা গুনতে হচ্ছে পেয়াঁজের জন্য বাড়তি টাকা। 
 
তবে কিছুদিন ধরে সরকার এবং বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা বাজার তদারকি করে সেইসাথে অন্যদেশ থেকেও পেয়াঁজ আনার পরিকল্পনা করায় একটু সস্তি পাচ্ছে সাধারন ক্রেতাগন।

সূত্রে জানা যায়, ভারতের বিকল্প দেশগুলো থেকে এখন প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছে। এভাবে সরবরাহ বাড়ায় বাজারেও পণ্যটির দাম কমছে। ফলে কিছুটা নিম্নমানের পেঁয়াজের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এখন। চট্টগ্রাম বন্দর ও পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খবর নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এই পদক্ষেপ এর ফলে যেখানে আগে পেয়াঁজ ছিল ১০০ টাকা সেখানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অথাৎ কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। 
আরো জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮৭ হাজার টনের জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে।

এবং এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ২৯ হাজার টন। আমদানির পথে আরও ৫৮ হাজার টন।
এই বড় ঘাটতি ভারত ছাড়াই অন্য দেশ থেকে করা হয়েছে বলেও জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও বাজারদর তুলনা করে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের যেসব ঋণপত্র  খুলেছে, তাতে গড়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৩৮ টাকা। এর সঙ্গে খালাসসহ খরচ ধরলে প্রতি কেজি ৪২–৪৫ টাকা পড়ছে। আমদানিকারকেরা এখন পেঁয়াজ বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৩৬–৪০ টাকায়। আমদানিকারকদের কাছ থেকে নিয়ে আড়তদারেরা তা বিক্রি করছেন ৪০–৫০ টাকায়।

এবার ১৮ দেশ হতে পেয়াঁজ আমদানি করা হয়েছে তার মধ্যে - পাকিস্তান, মায়ানমার, তুরস্ক, মিশর, চীন, নেদারল্যান্ডস সহজ বিশ্বের আরো অনেক দেশ। 

বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে জানা যায় যে,
ভারত রপ্তানি বন্ধের পর এখন বিকল্প রাস্তা দেখছে ব্যবসায়িকরা। তারা বলছেন ভারত শিগগিরই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যদি নাও করে তাহলেও পেঁয়াজের সংকট হবে না। 
তাঁরা আরও বলছেন, প্রতিদিন যেভাবে পেঁয়াজের ঋণপত্র খোলা হচ্ছে এবং আগের এলসি করা পেঁয়াজ আসছে, তা অব্যাহত থাকলে দেশে পেঁয়াজের সংকট হবে না। 

কারণ, ঋণপত্র খোলার পাশাপাশি আমদানির অনুমতি নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীরা বিকল্প দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের সঙ্গেও চুক্তি করে রেখেছেন। তাতে সরবরাহ ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ আছে। এবং পেয়াঁজ আগের মতোই স্বল্প মূল্যে বিক্রি করতে পারবো, আর এখন থেকে আমাদের আগে থেকেই সাবধান হতে হবে কারন যখন ভারত পেয়াঁজ রপ্তানি বন্ধ করবে তখন যেনো আমরা সেই ধাক্কা মোকাবিলা করতে পারি আর দামও যেনো ঠিক থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ